ওঙ্কার ডেস্ক: মণিপুরে দীর্ঘ ২৮ মাস ধরে চলা গোষ্ঠী হিংসার আবহে অবশেষে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দুপুরে মিজোরাম থেকে বিমানে ইম্ফলে পৌঁছে সড়ক পথে চুরাচান্দপুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। মূলত হেলিকপ্টারে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে সড়কপথে যাত্রা করতে হয় তাঁকে। কুকি-জো অধ্যুষিত এই জেলাই ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে হিংসার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছিল। সেখানকার ঘরছাড়া মানুষদের সঙ্গে দেখা করে শান্তির বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
চুরাচান্দপুর শহরে একটি সভায় উপস্থিত হয়ে ৭০০০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মোদী। তিনি ঘোষণা করেন, মণিপুরে সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নতিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নেবে। সভামঞ্চ থেকে শান্তি ও উন্নয়নের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সংগঠনের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শান্তির পথে আসুন। মণিপুরের উন্নতির জন্য ভারত সরকার কাজ করে চলেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর গত ২৮ মাসে মণিপুরে আসেননি তিনি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলি একাধিকবার সরব হয়েছিল। অবশেষে মোদীর সফরে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে।
চুরাচান্দপুরে ঘরছাড়া মানুষদের সঙ্গে আলাপচারিতা শেষে প্রধানমন্ত্রী মেইতেই অধ্যুষিত ইম্ফল উপত্যকায় যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেও তিনি হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আরও কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের বার্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী এই সফর সম্পূর্ণ করতে চাইছেন বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
