ওঙ্কার ডেস্ক: মাত্র দুই ঘন্টার জন্য ভারত সফরে নয়া দিল্লির সঙ্গে ব্যবসা, খনিজ তেল সরবরাহ, এআই বিভিন্ন গুরত্বপূর্ন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট সেখ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চলতি মাসের ১৯ তারিখে ভারত সফরে এসে মাত্র ৩ ঘন্টার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই জ্বালানী, তথ্য প্রযুক্তি, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বাহিনী এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির ব্যপারে আলোচনা হয় হবে জানা গেছে। এই বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।
আলোচনায় শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই এই ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আদানপ্রদান ও যৌথ গবেষণার ওপর জোর দিয়েছে।
বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডিজিটাল পরিকাঠামো, সুপারকম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান দুই নেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে দুই দেশ। সেই লক্ষ্যেই গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উঠে আসে আলোচনায়।
পারমাণবিক শক্তি ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, বড় রিঅ্যাক্টর ও ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর সংক্রান্ত সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে যৌথ প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে দুই নেতা জানান, আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, মহাকাশ গবেষণা ও অবকাঠামো উন্নয়নেও পারস্পরিক সহযোগিতা বিস্তারের কথা উঠে আসে বৈঠকে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
