ওঙ্কার ডেস্ক: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ বদলে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘিরে বুধবার রাতভর ছড়াল তীব্র উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি। সংঘাতের আগুনে প্রাণ গেল অন্তত সাতজনের। যদিও সরকারি ভাবে এখনও চারজনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলার অভিযোগে গোপালগঞ্জে টানটান উত্তেজনা, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও থামানো যায়নি হিংসা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে জারি হয় ১৪৪ ধারা, তারপরও দাঙ্গা থামেনি বলে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করে প্রশাসন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, কারফিউ জারির মূল উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গোপালগঞ্জ ছেড়ে পালাতে না দেওয়া। যান চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে দেহ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে সেনার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের একাংশ সরাসরি সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে দায়ী করছে। অথচ গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেছিলেন, যেকোনও অবস্থায় সেনা দেশের মানুষের পাশে থাকবে। গোপালগঞ্জের রক্তাক্ত ঘটনার পরে সেই আশ্বাস ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনা নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানানো হলেও সেনাবাহিনীর গুলি চালানোর প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে প্রশাসন। দুঃখপ্রকাশ তো করা হয়ই নি বরং সেনার এই কর্মসূচীকে প্রশংসা করা হয়েছে পরোক্ষভাবে।গোপালগঞ্জে আশান্তির পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার তরফ থেকে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এনসিপি শান্তিপূর্ণভাবে এক বছর পূর্তি উপলক্ষে পদযাত্রা করতে চেয়েছিল। সভা করতে না দেওয়া মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সমান, যা লজ্জাজনক। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগপন্থী দুষ্কৃতীদের হামলার নিন্দা করে সরকার বলেছে, হামলাকারীদের শিগগিরই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ সেখ হাসিনা। তিনি ইউনূস বাহিনীর উপর বাক-নিশানা করে বলেছেন, ঐ দলের মূল লক্ষ ছিল গোপালগঞ্জের মাজির ধ্বংস করা।তিনি তাঁর বিবৃতি তে আরও বলেন, “দেশবাসী দেখেছে কীভাবে অন্তবর্তী সরকার দেশের পবিত্র বঙ্গবন্ধুর বাসভবন, মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতিস্মারক, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সম্পদকে নষ্ট করতে উঠে পরে লেগেছে”। হাসিনা ইউনূস দলকে খুনি ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, “গনহত্যা, পুলিশ হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, জালিয়াতির মত অপরাধমূলক কাজ প্রাধান্য পেয়েছে ৫ই আগস্টের পর থেকেই। সাধারন মানুষের ঘর-বাড়ি ভাঙ্গা, অফিস, ব্যাবসার ক্ষতি করা, রাষ্ট্রীয় ভবন গুলিও বাদ যায়নি হামলা থেকে”। বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে জঙ্গীবাদের পৃষ্টপোষক বলেছেন সেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ তোলেন ইউনূসের মদতেই টুঙ্গিপাড়ায় দেশবন্ধু সেখ মজিবুরের সমাধির উপর হামলা চালানো হয়েছে, যা বাংলা ও বাঙ্গালীর কাছে চরম অপমানজনক।“বাংলা বা বঙ্গবন্ধুর উপর হামলা হলে জাতি চুপ করে বসে থাকবে না, গোপালগঞ্জও থাকেনি” বলেছেন হাসিনা।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি সহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি গোপালগঞ্জের হামলাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছে। ঘোষণা হয়েছে নতুন আন্দোলনেরও। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথায়, বাংলাদেশের মাটিতে সহিংসতার কোনও স্থান নেই, ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা।
