নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া : নবদ্বীপে বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিক খুনে গ্রেফতার অরিন্দম মণ্ডল ওরফে ছোট্টু। বীরভূম জেলার সাইথিয়া থেকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করে নবদ্বীপ থানার পুলিশ। ঘটনায় আরও তিনজন অভিযুক্ত অধরা। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত বিশ্বকর্মা পূজার দিন নদিয়ার নবদ্বীপে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃত যুবকের নাম সঞ্জয় ভৌমিক। তার বাড়ি নবদ্বীপ থানার প্রাচীন মায়াপুর সপ্তম লেন এলাকায়! বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বন্ধু বান্ধব মিলে স্থানীয় একটি ক্লাবে মদ্যপান করে নিজেদের মধ্যেই বচসায় জড়িয়ে পড়ে তারা। মারধর শুরু হয়।
সেসময় বাড়ি ফিরছিলেন নবদ্বীপ শহরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মী সঞ্জয় ভৌমিক। বচসা দেখে এগিয়ে গিয়ে তিনি তাদের ঝামেলা করতে বারণ করেন। তখন তারা সঞ্জয়ের ওপর চড়াও হয়। প্রাণ বাঁচাতে সঞ্জয় কোনওমতে নিজের বাড়িতে ঢুকে যান। পরিবারের অভিযোগ, রাতে তিনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন সেই সময় জয় রায়, তারক দেবনাথ, নান্টু ও ঝন্টু-সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে ঢুকে সঞ্জয়কে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তারপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তারা।
তখন হইচই শুনে ছুটে আসেন পড়শিরা। নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয়কে। সেখানেই চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় ওই যুবকের। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় ওই যুবকরা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। রাজনৈতিক কারণেই তারা খুন করেছে সঞ্জয়কে। এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
ছেলেকে মেরে ফেলার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সঞ্জয়ের পরিবার! তাকে পরিকল্পিত ভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, এমনই অভিযোগ করে মৃতর পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ক্ষোভও দেখায় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা।
এর ফলে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে এলাকার মোড়ে বসানো হয় পুলিশ পিকেট। মৃতের বাড়িতে আসে বিজেপির একটি প্রতিনিধী দল। এ বিষয়ে মৃতর মা অলকা ভৌমিক জানিয়েছিলেন, “এলাকায় যারা ক্লাবের সদস্য তারা প্রত্যেকেই তৃণমূল করে, তাদেরই ওঠাবসা থাকে সেই ক্লাবে”। তবে এটাই প্রথম নয়, এর আগেও আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছেন সঞ্জয়, এমনটাই অভিযোগ মৃত সঞ্জয় ভৌমিকের মায়ের।
