ওঙ্কার ডেস্ক: নদিয়ার তেহট্ট থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ৮ বছরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র স্বর্ণাভ বিশ্বাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হল ছোট্টু মণ্ডল, সুপ্রিয়া ভৌমিক, কার্তিক মণ্ডল এবং সুচিত্রা মণ্ডল। স্বর্ণাভর পরিবারের পক্ষ থেকে সাত জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার রাতে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগে নাম ছিল উৎপল মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী সোমা মণ্ডলেরও। তবে শুক্রবার স্বর্ণাভর দেহ উদ্ধারের পর উত্তেজিত জনতা উৎপল ও সোমার উপর চড়াও হয়। মারধর করে তাঁদের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা দুই জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীরা আগুন ধরিয়ে দেয় তাঁদের বাড়িতে। তবে এই গণপিটুনিতে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ জানিয়েছেন, নাবালকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রেফতার হওয়া চার জনকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, স্বর্ণাভর পরিবারের সঙ্গে মণ্ডল পরিবারের জমি নিয়ে বিবাদ ছিল। বালকের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা গিয়েছে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। শুক্রবার দুপুরে খেলতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি স্বর্ণাভ। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরে ত্রিপলে মোড়া অবস্থায় তাঁর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। সেই দৃশ্য ঘিরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এই ঘটনার পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনির মামলায় আলাদা করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
