ওঙ্কার ডেস্ক: ফের একবার বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত চার মাসে এটি তাঁর তৃতীয় সফর। শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। একইসঙ্গে দমদম সেন্ট্রাল জেল ময়দানে রাজনৈতিক সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বারবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের বঙ্গসফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল তুঙ্গে। মোডীর সভায় মোদীর বক্তৃতার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হতে পারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী এদিন বাংলায় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগকে তুলে ধরে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলবেন তিনি, এমনটাই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। ১৫ আগস্ট লালকেল্লার বক্তৃতায় মোদী স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, অনুপ্রবেশের সমস্যা দমন করবে কেন্দ্র। তখনই তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ষড়যন্ত্র করে দেশের জনসংখ্যার বিন্যাস বদলানো হচ্ছে, যার ফলে যুবকদের কর্মসংস্থান এবং সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন ‘ডেমোগ্রাফি মিশন’ গঠনের ঘোষণা করেন তিনি।
অতীতে যখন প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ তুলেছেন, তখন তৃণমূলের সাফ জবাব ছিল সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনী বিএসএফের। তাহলে এর দায়ভার কে নেবে? এরই পাল্টা সুর শোনা যাচ্ছে বিজেপির শিবিরে। দলের মুখপাত্র ও বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন, সীমান্তের বহু অংশ এখনও বেড়াবিহীন, তার কারণ রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তর করেনি। তাঁর দাবি, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২,২১৬ কিমি, এর মধ্যে এখনও ৫৬৯ কিমি বেড়াবিহীন। কেন্দ্র অর্থ দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জমি দেয়নি বলেই কাজ আটকে আছে। মালব্য আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত বেড়া না থাকায় পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কেজি মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি গরু পাচার, জাল নোট ব্যবসা ও অবৈধ অনুপ্রবেশও অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি কলকাতা সফরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৫,২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি নতুন মেট্রো রুটের উদ্বোধন করবেন তিনি। নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ বিমানবন্দর, শিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড এবং বেলেঘাটা–হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (রুবি মোড়)। এর ফলে যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
বাংলা সফরের আগে বিহারেও যাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিহার সফরেও থাকছে একগুচ্ছ প্রকল্প, শুক্রবার সকালে গয়া গিয়ে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মোদী। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গার উপর নতুন ৬ লেনের সেতু (১,৮৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে), যা পাটনা জেলার মোকামা ও বেগুসরাইকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি থাকছে বখতিয়ারপুর-মোকামা জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ, বিক্রমগঞ্জ-দাওয়াথ-নবীনগর-দুমরাও সড়ক প্রকল্প।৬,৮৮০ কোটি টাকায় নির্মিত ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বক্সার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টও থাকছে মোদীর ঝুলিতে। নতুন দুটি ট্রেন পরিষেবা চালুর কথ বলবেন তিনি, যেগুলি হল গয়া-দিল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবং বৈশালী-কেরমা বৌদ্ধ সার্কিট ট্রেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। মেট্রো ও এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্প উদ্বোধন নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের মুখে কলকাতার মঞ্চ থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ তুলে ধরলে বিজেপি বাংলায় নতুন করে মেরুকরণের আবহ তৈরি করতে চাইবে।
