ওঙ্কার ডেস্ক: দুর্গাপুরের নেহরু স্টেডিয়াম চত্বরের ছবি এখন বদলে গিয়েছে। রথের মেলার রঙিন দোকানপাট গুটিয়ে নিয়েছে শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কারন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সভা হবে দুর্গাপুরে। সভার জন্য ভিড় হবে, ভিড় সামলাতে গাড়ি দাঁড়াবে। আর সেই গাড়ির জায়গা করতে গিয়ে উধাও হচ্ছে মেলার রঙ, আলো, বিক্রির শেষ বেলার স্বপ্ন।
দুর্গাপুরে রথের মেলা মানে একরকম ছোটখাটো উৎসব। বড় দোকানদার নয়, পুঁজি সম্বল করে দূরদূরান্ত থেকে আসা ছোট বিক্রেতারা স্টল সাজান। কেউ পাঁপড় বিক্রি করেন, কেউ আচার, কেউ খেলনা বা মাটির জিনিস। বিক্রির থেকে বেশি ভরসা থাকে শেষ দু’-একদিনের ভিড়ের ওপর। সরকারি মেলার দিন ফুরালেও বৃষ্টি বা খারাপ বিক্রির কারণে অনেকেই শেষের দিকটায় ব্যবসার ঘাটতি পোষানোর আশায় বসে থাকেন। কিন্তু এবার সে আশা কিছু টা হলেও ভেস্তে গিয়েছে। মেলায় দোকান দেওয়া এক ব্যাবসায়ী জানিয়েছেন, তিনি পাঁপড় বিক্রি করেন এই মেলায়। এই রথের মেলায় গুণে গুণে আড়াই হাজার টাকা স্টল ভাড়া দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, “বৃষ্টি তো ছিলই, তারপর প্রধানমন্ত্রী আসবেন শুনে প্রশাসন জানিয়ে দিল মাঠ ফাঁকা করো, মেলা গুটাও।’’ পাঁপার বিক্রেতার কথায়, ‘‘সব জলে গেল।’’ অন্য এক আচার বিক্রেতা হাহুতাশ করছেন ও বলেছেন, ‘‘এত বছর ধরে মেলায় আসি, এমন ক্ষতি কোনওদিন হয়নি।’’
এখানে দেখবার বিষয়, এই মেলা বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে কোনও ঝামেলার জন্য নয়, কোনও বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা জনিত কারন নয়, বরং এই মেলা বন্ধ হচ্ছে বিজেপির রাজনৈতিক সভা উপলক্ষে, আর সভার ভিড় সামলাতে, গাড়ি দাঁড় করাতে উল্লেখ্য মাঠের দরকার। এটি নাকি খুবই সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, দাবি করছে শাসক দল বিজেপি। ‘‘এটা পুরোপুরি প্রশাসনিক, দলের কোনও হাত নেই,’’ বলছেন স্থানীয় নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা কমিটিও বলছে, ‘‘রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক।’’ বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর সভা বড় ব্যাপার, নিরাপত্তা, যানবাহন, লোকজন সব সামলাতে তো জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই জায়গার বদলে যাঁরা জীবিকার আশায় বৃষ্টি মাথায় করে মেলায় বসেছিলেন, তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প রাস্তা আছে? তাঁদের ভাড়া ফেরত দেবে কে? তাঁদের ক্ষতিপূরণ কে দেবে?
এদেশে সভা হয়, মিছিল হয়, রোড শো হয় আর তাতে ক্ষতি হয়, দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর। নেহরু স্টেডিয়ামে কেন্দ্রের বড় সভা হবে, করা হবে বড় বড় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার হবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার। কিন্তু সেই সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পায়ের তলায় পিশে তার উপর ভর দিয়েই মজবুত করা হয় এইসব সভার পিলার।
