ওঙ্কার ডেস্ক: ২৩ অগস্ট ‘ন্যাশনাল স্পেস ডে’ উপলক্ষে ভারতের মহাকাশ অভিযানের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ‘মন কি বাত’ এর ১২৪তম পর্বে দেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বললেন, “এই সাফল্য প্রতিটি ভারতীয়ের গর্বের বিষয়।”
সম্প্রতি মহাকাশ থেকে নিরাপদে ফিরে আসা মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের মহাকাশ অভিযানের এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে, যা প্রত্যেক ভারতবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে”। মহাকাশ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ, দেশে গড়ে ওঠা হাজার হাজার স্পেস স্টার্টআপ এবং আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকেও আলোকপাত করেন তিনি। বিজ্ঞান ছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পে মহিলাদের অবদানের কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, “সাঁওতালি শাড়ির পুনরুজ্জীবনে নারীদের ভূমিকা শুধু ঐতিহ্য রক্ষা নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশেও সহায়ক”।
খেলাধুলা নিয়েও আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অলিম্পিক থেকে অলিম্পিয়াড সবক্ষেত্রেই আমরা এগোচ্ছি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রীড়া সামগ্রী নিয়ে খেলছে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। স্টার্টআপরা ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন বিপ্লব আনছে”। পরিবেশ ও প্রযুক্তির সংযোগে উদাহরণ হিসেবে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের প্রকল্প তুলে ধরেন তিনি, যেখানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪০টির বেশি ঘাসজীবী পাখির অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, প্রযুক্তি আর সংবেদনশীলতা মিলেই আসে সঠিক পরিবর্তন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের ১২টি দুর্গকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “এই দুর্গগুলি আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। রায়গড় সফর আমার জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে”। ভাষা ও লিপি সংরক্ষণের গুরুত্বও মনে করিয়ে দেন মোদী। তামিলনাড়ুর মণি মারানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যদি এই ধরনের ‘পান্ডুলিপি শিক্ষার প্রচলন আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে বহু প্রাচীন জ্ঞান আজকের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
