ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত ও কার্যকর করতে কেন্দ্র সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। দেশের কোটি কোটি মানুষের পুষ্টি, খাদ্যপ্রাপ্তি এবং আর্থিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য “প্রতিটি পরিবারে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা।”
২০০৭-০৮ অর্থবছরে শুরু হয় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা মিশন যার লক্ষ্য ছিল খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪-২৫ সালে এই মিশন পুনর্গঠিত হয়ে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি মিশন নাম রাখা হয়। যেখানে খাদ্যের পুষ্টির মান উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার হচ্ছে।
একইসঙ্গে, ২০১৩ সালে চালু হওয়া জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন দেশের খাদ্য বণ্টন ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আনে। এই আইনের আওতায় দেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ এবং শহুরে এলাকার ৫০ শতাংশ মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তার অধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৮.৯ কোটি মানুষ এই আইনের সুবিধা পাচ্ছেন। কেন্দ্র সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য এই প্রকল্পকে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ রূপে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বণ্টনের পরিকল্পনা চালু রেখেছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় আনুমানিক ১১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা।
গরিবতম জনগোষ্ঠীর জন্য রয়েছে অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। একইভাবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবারগুলি প্রতি ব্যক্তি প্রতি মাসে ৫ কেজি খাদ্যশস্য পেয়ে থাকে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এই সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে এবং লক্ষ্যযুক্ত গণবণ্টন ব্যবস্থা-এর মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ করে।
পুষ্টিহীনতা রোধে সরকার ২০১৯ সালে পুষ্টি সংবর্ধিত চাল বিতরণ প্রকল্প শুরু করে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশের সব রাজ্যে মধ্যাহ্নভোজন প্রকল্প, জনবন্টন ব্যবস্থা ও আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ১০০ শতাংশ চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে, এবং এর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার কেন্দ্র সরকার বহন করছে।
দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে চালু হয়েছে ‘এক দেশ, এক রেশন কার্ড’ প্রকল্প, যার মাধ্যমে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে রেশন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৯১ কোটি রেশন তোলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়াও, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং রাজ্য সংস্থাগুলি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ও গম সংগ্রহের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করছে। জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গুদামে প্রায় ৩৭৭.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন চাল এবং ৩৫৮.৭৮ লক্ষ মেট্রিক টন গম মজুত ছিল জলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।
গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। রেশন কার্ডগুলির ৯৯.৯ শতাংশ আধার সংযুক্ত, প্রায় সব ন্যায্য মূল্যের দোকানে ই-পিওএস মেশিন চালু হয়েছে। পাশাপাশি ‘মেরা রেশন ২.০’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা রেশন সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারছেন, আর ‘অন্ন মিত্র’ অ্যাপ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সহায়তা করছে।
