ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে ইডেন গার্ডেন্সে নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশ। দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পর গোটা দেশজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট, সেই প্রেক্ষিতেই এবার কলকাতার ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বলয়ের স্তর। সোমবার রাতেই সিএবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে কলকাতা পুলিশ। আলোচনায় মূল ফোকাস ছিল স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে জননিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথে নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনা।
মঙ্গলবার দুপুরে ইডেন গার্ডেন্স পরিদর্শনে যাবে পুলিশের এক বিশেষ দল। মাঠের গ্যালারি, প্রেস বক্স, ভিআইপি জোন থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুম সব জায়গায় হবে তল্লাশি ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা। এর পাশাপাশি, স্টেডিয়াম ঘিরে থাকা মেট্রো স্টেশন, পার্কিং জোন ও প্রবেশপথগুলিতেও মোতায়েন করা হবে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনওভাবেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক রাখা হবে না। ড্রোন নজরদারি ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে শহরে বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কা রয়েছে। তাই পুলিশ ইতিমধ্যেই দর্শকদের প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণে আলাদা ট্রাফিক প্ল্যান তৈরি করেছে। মাঠের চারপাশে একাধিক চেকপয়েন্ট থাকবে, যেখানে দর্শকদের ব্যাগ, মোবাইল, ক্যামেরা ইত্যাদি কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হবে। সন্দেহজনক কোনও বস্তু বা আচরণ চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেবে বম্ব স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিম।
খেলার প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই শহরে পৌঁছে গিয়েছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোঠক ইডেনের পিচ নিয়ে আলোচনা করেছেন। পিচ কিউরেটর জানিয়েছেন, গম্ভীর টেস্ট মানের ব্যালান্সড উইকেট চেয়েছেন, যেখানে ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়েই সুযোগ পাবে। টসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে একটি স্মারক মুদ্রা, যার এক পাশে থাকবে মহাত্মা গান্ধীর ও অপর পাশে নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতিকৃতি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে।
ইডেনের প্রতিটি বড় ম্যাচের মতো এবারও নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পর প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, খেলা চলাকালীন পুরো স্টেডিয়াম এলাকা ২৪ ঘণ্টা নজরদারির আওতায় থাকবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
