ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনে বিস্ফোরণের পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে তদন্তকারীদের তালিকায়। দিল্লি বিস্ফোরণ কান্ডের মূল অভিযুক্ত উমর নবি সহ আরও বেশ কিছু অভিযুক্ত সরাসরি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় আল ফালহ-র কতৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ নম্বর বিল্ডিং-এর ১৩ নম্বর ঘর থেকে বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক মজুত ছিল, যা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রথমে কতৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ খারিজ করলেও এবার একাধিক গুরতর অভিযোগ উঠে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমেছে ইডি।
দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে আর্থিক যোগসূত্র খুঁজতে সোমবার ভোর থেকে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত মোট ২৫টি স্থানে একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিল্লি, ফরিদাবাদ, জামিয়া নগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই তল্লাশি চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, দফতর, ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কয়েকজন পদাধিকারীর বাড়ি থেকে প্রচুর নথি, ডিজিটাল ডেটা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য মিলেছে, যেগুলি ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ও গবেষকের সঙ্গে আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগসূত্র সামনে আসার পর থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধছিল। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিল্ডিং ১৭’-এর ১৩ নম্বর ঘরকে সন্দেহভাজনদের কৌশলগত বৈঠকের জায়গা হিসাবে ব্যবহার করা হত বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এখান থেকেই নাকি পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গীগোষ্টীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অর্থের উৎস এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর নজর দিয়েছে ইডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকি ও তাঁর ট্রাস্টের আর্থিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, শিক্ষা, সফটওয়্যার, এনার্জি, আর্থিক পরিষেবর মোট নয়টি কোম্পানির পরিচালক বা দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন তিনি। এর অনেকগুলিরই নথিতে একই ঠিকানা, জামিয়া নগরের ‘আল-ফালাহ হাউস’। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই সংস্থাগুলির একটি অংশ হয়তো আসল ব্যবসার আড়ালে অবৈধ লেনদেনের পথ তৈরি করত, যা পরে হয়তো এই সান্ত্রাসবাদে আর্থিক সহয়তা করত। এছাড়াও বহু পুরনো প্রতারণা-সংক্রান্ত মামলায় সিদ্দিকি পরিবারের নাম থাকার বিষয়টিও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকারিতা, নিয়োগপদ্ধতি, হোস্টেল ব্যবস্থাপনা-সহ একাধিক প্রশাসনিক নথিতে গোরমিল আছে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন কোর্সের অনুমোদন এবং স্বীকৃতি নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে যে স্বীকৃতিগুলির উল্লেখ রয়েছে, তার কয়েকটি নাকি যাচাইয়ে মেলেনি, ফলে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলির দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ইডি-র পাশাপাশি আয়কর দফতর ও স্বশাসিত শিক্ষামূলক সংস্থাগুলিও কিছু তথ্য খতিয়ে দেখছে। ইউজিসি এবং ন্যাক আল ফালহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি নিয়ে অসঙ্গতি প্রকাশ করেছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিস আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য পদ খারিজ করেছে।
প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তারা তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ‘অতিরঞ্জিত’। তবে তদন্তকারীদের মতে, বিস্ফোরণ-কাণ্ডে অভিযুক্তদের আর্থিক সাহায্যের উৎস কোথায়, কীভাবে অর্থ লেনদেন হয়েছে, ট্রাস্ট বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনও অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়েছে কি না সব দিক খুঁটিয়ে দেখা জরুরি। নথিপত্রের প্রাথমিক বিশ্লেষণ হাতে আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবে ইডি।
দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে এই তল্লাশি অভিযানের ফলে তদন্তের পরিধি আরও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আর তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেছে যতক্ষণ না সন্দেহের প্রতিটি দিক পরিষ্কার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসন্ধান চলবে।
