ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে জঙ্গি দমন অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি। আইএসআইএস এবং আল-কায়েদার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র থাকার অভিযোগে একাধিক রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ১২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে।
সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর পাশাপাশি বিহার, দিল্লি, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিটি রাজ্যেই সন্দেহভাজনদের অবস্থান চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়, যাতে কোনও অভিযুক্ত পালানোর সুযোগ না পায়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে বসে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিল। আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট এবং আইএসআইএস-এর সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রটি একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের অংশ, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। তারা শুধু মতাদর্শ প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ভবিষ্যতে দেশবিরোধী কার্যকলাপের পরিকল্পনাও করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও সেই পরিকল্পনার নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা সময় এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তদন্তকারীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
অভিযান চলাকালীন বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র এবং সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, যা খতিয়ে দেখে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার, অর্থের উৎস এবং অন্য জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কীভাবে তারা এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হল, কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছিল এবং দেশের ভিতরে তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা কী ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই গ্রেফতারি দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা, তবে এখনও এই চক্রের শিকড় পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এই ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।