ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে ওষুধের অতিরিক্ত সেবনের জন্য মৃতের সংখ্যা দিন দিন উর্দ্ধমুখি। কেন্দ্রের এক রিপোর্ট অনুসারে দিনে গড়ে ২ জন করে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ গ্রহণ করার ফলে মারা যায়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১২ জন মানুষ ওষুধের ওভারডোজ বা অতিরিক্ত সেবনের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন। গত চার বছরে এমন মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এমন মৃত্যু সরকারিভাবে নথিভুক্ত হয় না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে এই প্রবণতা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা উদ্বেগের সমস্যায় ভোগা মানুষ ব্যথানাশক, ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ জাতীয় ওষুধ অনিয়ন্ত্রিতভাবে সেবন করছেন। দীর্ঘদিন এমনভাবে ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে বিষক্রিয়া জমে মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠছে। এনসিআরবি জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন ওষুধের অপব্যবহারই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি যে এই মৃত্যু গুলির মধ্যে মাদকজাতীয় পদার্থও যুক্ত ছিল কি না। তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, নেশা, মানসিক চাপ ও সহজে ওষুধ পাওয়ার প্রবণতাই এই মৃত্যুর অন্যতম মূল কারণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওষুধের অবাধ বিক্রি এবং নিয়ন্ত্রণহীন ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবস্থাই এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বিক্রি হয়, ফলে মানুষ নিজের মতো করে ডোজ বাড়িয়ে নিচ্ছেন, যা প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনছে। অন্যদিকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনের চাপ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের জটিলতা এবং একাকীত্ব অনেককে ঘুমের ওষুধ বা ব্যথানাশকের উপর নির্ভরশীল করে তুলছে। একবার অভ্যাস তৈরি হলে সেই নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে আসক্তিতে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই প্রবণতা রোধ করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসার, এবং ওষুধ বিক্রির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
