ওঙ্কার ডেস্ক: গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং এর সময় ‘পড়ে গিয়ে’ পুণের ব্যবসায়ী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঘটনার তদন্তে নেমে বিস্ফোরক দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের দাবি, তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে খুন করেছেন। শুধু তাই নয়, এর সপক্ষে প্রমাও পুলিশের হাতে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে বাগদান সম্পন্ন হয় কেতন ও সিয়ার। ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় পা পিছলে কেতন গভীর খাদে পড়ে মারা যান। তবে তদন্ত যত এগিয়েছে তত এই ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। অবশেষে পুলিশ জানতে পেরেছে এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল এটি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগামী নভেম্বরে উদয়পুরে এক জমকালো আয়োজনে এই যুগলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে তাঁদের পরিবার জয়পুরে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ বুক করেছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য দুটি ব্যক্তিগত বিমানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গিয়েছে, সিয়া কেতনকে বিয়ে করতে অনিচ্ছুক ছিলেন। চেতন চৌধুরীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সে কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। চেতনের সঙ্গে তাঁর প্রায় এক বছরের সম্পর্ক বলে জানা গিয়েছে।
পুনে গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানান, গোপন তথ্য, সাক্ষীদের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীই এই অপরাধের মূলচক্রী। ওই পুলিশ কর্তা বলেন, ‘সিয়া গোয়াল এবং কেতন আগরওয়ালের বাগদান হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে যান তাঁরা। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৪৫-এর মধ্যে সিয়া গোয়াল ফোনে জানান, কেতন পা পিছলে দুর্গ থেকে পড়ে মারা গেছেন।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘গোপন সূত্র, সাক্ষীদের বয়ান এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিল।’