ওঙ্কার ডেস্ক: বিধান সভা ভোটের পর থেকেই কার্যত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা ও পদ হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের রাশও আলগা হতে শুরু করেছে, নিজের দলেই কার্যত ‘বহিরাগত’ হয়ে পড়েছেন তিনি। সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোপন বৈঠকের পর তা যেন আরও স্পষ্ট হল। সপ্তাহের প্রথম সোমবার নিজেদের হোটেলে স্পেশাল সেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রতরা। সেই দল থেকে স্বয়ং মমতাকেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়! বিপদের আন্দাজ বুঝে, ‘আসল’ তৃণমূলের নামে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দল দখলের যাবতীয় চাল ভেস্তে দিতে রাতারাতি কমিশনের দ্বারস্থ হলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের তৈরি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি ও দলের অন্যান্য সাংগঠনিক স্তরের যাবতীয় তথ্য তিনি পাঠালেন কমিশনে। তাতে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজের নাম, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এছাড়া রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেনের নাম এবং কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি সংগঠনের খুঁটিনাটি তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দলের রাশ নিজেদের হাতে রাখতে মরিয়া প্রয়াস কালীঘাট তৃণমূলের। এত কিছুর পরেও প্রশ্ন, তবে আসল কমিটি কোনটা? এই নিয়ে এখন দলের ভেতর ও বাইরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমোদিত এই নতুন তালিকায় বড়সড় রদবদল দেখা গেছে। গত ৫ জুন যে কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেখানে দলের প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাসকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সোমবারের নতুন কমিটি থেকে তাঁকে সোজাসুজি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু অরূপ বিশ্বাসই নন, আগের কমিটির আরও অনেক চেনা মুখকেই এই নতুন তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এখন এটাই প্রশ্ন একটি দলের দুটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হলে তৈরি হবে আইনি জটিলতা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কমিটির দখল নেওয়া এবং দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই এবার নির্বাচন কমিশন ছাড়িয়ে দেশের আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করতে ঋতব্রতেরা থানায় অভিযোগ করেছিলেন। যার ভিত্তিতে লেনদেন বন্ধও করে দিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে সেই টাকা নিয়ে। এর পর সরাসরি দলের দখল নেওয়ার দিকে অগ্রসর হলেন ঋতব্রতেরা। সোমবারের বৈঠকের পর মঙ্গলে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনে।
কালীঘাটের তৃণমূলে ক্রমশ লোকসংখ্যা কমছিল। মমতার আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত ফিরহাদ-অরূপেরাও তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দু’দিন আগেই দল ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু)। মঙ্গলবার সেই বালুও বিধানসভায় ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এখন সিইও দফতরে গিয়ে ঋতব্রতেরা কী কী নথি জমা দেন, পরবর্তী ধাপেই বা কী হয়, নজর থাকবে সে দিকে।