ওঙ্কার ডেস্ক: এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিতকে ভারতীয় বায়ুসেনার নতুন ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ (ভিসিএএস) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমানে তিনি চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগকে দেশের সামরিক কাঠামো এবং বায়ুসেনার আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে এয়ার মার্শাল দীক্ষিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার স্ট্রিমে কমিশনপ্রাপ্ত হন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি যুদ্ধবিমান পরিচালনা, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। একজন যোগ্য ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর এবং এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট পাইলট হিসেবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
বায়ুসেনার বিভিন্ন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মিরাজ-২০০০, মিগ-২১ এবং জাগুয়ারসহ ২০টিরও বেশি ধরনের বিমানে তিনি ৩,৩০০ ঘণ্টারও বেশি সময় উড্ডয়ন করেছেন। যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। একটি মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইটার ঘাঁটি এবং দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান ফাইটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নেতৃত্বও দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সেরা ফাইটার প্রশিক্ষণ ঘাঁটির স্বীকৃতি অর্জন করেছিল।
সামরিক নীতি নির্ধারণ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারেও এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ সামরিক কাঠামো গঠন এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এয়ার মার্শাল দীক্ষিত জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমির প্রাক্তনী। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশে অবস্থিত ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি কৌশলগত ও নেতৃত্বগত দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বায়ুসেনার প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তি এবং যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব ভারতীয় বায়ুসেনাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ভাইস চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বায়ুসেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হবেন এবং দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।