ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত–কানাডা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে হঠাৎই নতুন গতি দেখা গেল। সেই প্রেক্ষাপটে কানাডা সফরে গেলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এই সফরকে কেবল একটি নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলার প্রথম স্পষ্ট সংকেত হিসেবেই দেখছে কূটনৈতিক মহল।
অটোয়ায় কানাডার শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা উপদেষ্টা এবং জননিরাপত্তা দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডোভাল। বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ দমন, সংগঠিত অপরাধচক্র, মাদক পাচার, সাইবার হুমকি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ রোধে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো। দুই দেশই তথ্য আদান-প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছয়। ভবিষ্যতে যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা এবং লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগের মতো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
গত কয়েক বছরে ভারত–কানাডা সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলিকে ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, কূটনীতিক বহিষ্কার, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া, এই সব কারনের জন্যই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে কানাডায় খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বারবার সামনে এসেছে। দিল্লির অভিযোগ ছিল, কিছু উগ্রপন্থী খালিস্তানী গোষ্ঠী কানাডার মাটিকে ব্যবহার করে ভারতবিরোধী প্রচার ও নাশকতার ছক কষছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডোভালের সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সফরের মাধ্যমে একদিকে যেমন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দেওয়া হয়েছে, তেমনই খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলিকে কঠোর সতর্কবার্তাও পৌঁছে গেছে। ভারত স্পষ্ট করেছে, সন্ত্রাসবাদ বা বিচ্ছিন্নতাবাদে কোনওরকম প্রশ্রয় মেনে নেওয়া হবে না এবং এ ধরনের কার্যকলাপ দমনে সহযোগিতা জরুরি।
বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক জালিয়াতি রুখতেও যৌথ উদ্যোগের কথা ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিস্তার এই সবই দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ। ফলে নিরাপত্তা সহযোগিতা শুধু রাজনৈতিক নয়, বাস্তবিক প্রয়োজন হিসেবেও সামনে এসেছে। উভয় পক্ষই মনে করছে, তথ্য বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় বাড়লে এই সমস্যাগুলির মোকাবিলা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে ধীরে ধীরে পারস্পরিক আস্থা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের পথও এভাবে সুগম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
