ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার সকাল ৮ তা ১১ মিনিট নাগাদ মুম্বাই থেকে মোট পাঁচজন কে নিয়ে লেজার্ট-৪৫ যাত্রা শুরু করে বারামতীর উদ্দেশ্যে। টেক অফের মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যেই বারামতি রানওয়ের কাছেই ভেঙ্গে পরে বিমানটি। দুর্ঘটনার আগেও ‘ক্লিয়ার টু ল্যান্ড’ বলে জানানো হয় ককপিট থেকে, পর মুহুর্তে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অসামরিক বিমান পরিষেবা তরফ থেকে জানানো হয়েছে দুর্ঘটনার আগে ককপিট থেকে শেষ কথা ছিল, “ওহ শি**!” পুরো ঘটনা কি কারনে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে চলছে তদন্ত।
মহারাষ্ট্রের বারামতিতে বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক বিমান দুর্ঘটনার নতুন ভিডিওর ভয়াবহ দৃশ্য দেশব্যাপী মানুষের মনে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা অজিত পওয়ার ও বিমানে থাকা চার জনের সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলি আমাদের সামনে এক নতুন ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে যা দুর্ঘটনার প্রকৃত ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে।
এই নতুন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বারামতি বিমানবন্দরের কাছে একটি ছোট বিমান অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নিচে নেমে আসছে। বিমানের ডানপাশে হঠাৎ তীব্রভাবে পড়ে যাওয়ার পূর্বেই তা খাড়া কোণে বেলি উল্টে যায় এবং অদ্ভুতভাবে সামনের দিকটি নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিছু মাত্র সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আঘাত করে এবং সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিশাল আগুনের বল ও কালো ধোঁয়ার স্তূপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর সামনে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উদ্ধারকারী দল। মুম্বাই থেকে উড়ানের সময় প্লেনে ছিল মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, তাঁর নিরাপত্তা রক্ষী বিদীপ যাদব, মুখ্য পাইলট সুমিত কাপুর, সহকারী পাইলট শাম্ভাবী পাঠক এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালি। ক্র্যাশের জেরে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কাওকে উদ্ধার করার সম্ভব হয়নি। এমনকি দেহ শনাক্ত করতেও বেশ সমস্যার মুখে পরতে হয়েছিল উদ্ধারকারী দলকে।
অসামরিক বিমান মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি মুম্বাই থেকে সকাল ৮টা ১১ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল, যার গন্তব্য ছিল, বারামতিতে এক ভোটের প্রচারের সভা। সুত্রের খবর অনুসারে, ৮টাআ ১৮ নাগাদ বারামতি এটিএস-এ যোগাযোগ করেন লেজার্ট-৪৫ এর সহ পাইলট শাম্ভাবী পাঠক। তাঁকে জবাব দিয়েছিলেন ফ্লাইট ট্রেনিং অর্গানাইজেশনের ইন্সপেক্টার ক্যাপ্টেন মাধব। কিছুক্ষণ পর বিমান থেকে যোগাযোগ করা হয় টাওয়ারে, জানতে চাওয়া হয় আবহাওয়া সম্পর্কে। উলটো দিক থেকে জানানো হয় ল্যান্ডিং-এর জন্য আবহাওয়া ঠিক আছে। পরে বারামতিতে রানওয়ে ১১ –এর কাছে এসে ককপিট থেকে ক্যাপ্টান পাঠক জানান রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না এবং বিমান আবার ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর এটিএস থেকে জানানো হয় ‘ক্লিয়ার টু ল্যান্ড’। কিন্তু এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি লেজার্ট-৪৫ বিমান থেকে। তারপরই ৮টা ৪৪ মিনিটে একটি ফাঁকা মাঠে আছড়ে পরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বিমানটির।
ঘটনার পর থেকে গোটা দেশ শোকের ছায়া বর্তমান। নিহতদের পরিবার, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অজিত পওয়ারের অকাল প্রয়াণে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতন ছিল, এবং বারামতির মতো অঞ্চলে তাঁর প্রকল্প ও উপস্থিতি জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলো ব্ল্যাক বক্সসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ করে চলেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
