ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। নয়াদিল্লির তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে খবর। দুই দেশের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরটি হলে তা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, তবু বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, নয়াদিল্লির তরফে ২১ ও ২২ অগস্ট তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে ঢাকার পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিককে বেশি সুবিধাজনক সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন সময়ে সফরটি হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধা ও কর্মসূচির কথা মাথায় রেখেই দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সেটিই হবে তাঁর প্রথম নয়াদিল্লি সফর। স্বাভাবিকভাবেই এই সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে এই সফরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যথেষ্ট সংবেদনশীল। ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। ফলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে এই বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।