ওঙ্কার ডেস্ক: পাঁচ দিনের বিহার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বিধায়কদের আগমনেই সকাল থেকে ভবনে জমে ওঠে রাজনৈতিক উত্তেজনা। শীতকালীন এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নরেন্দ্র নারায়ণ যাদব একে একে বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান।
আগামী দিনে এই বিধানসভার কাজকর্ম কতটা সহজে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে স্পিকার নির্বাচনের ওপর। মঙ্গলবার সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, গয়া টাউন কেন্দ্রের বর্ষীয়ান বিজেপি বিধায়ক প্রেম কুমারই হতে চলেছেন নতুন স্পিকার। বহুবারের বিধায়ক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা, গত কয়েক দশক ধরে দলের সংগঠন এবং প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এইসব শাসক জোটের ভরসার জায়গায় রয়েছেন তিনি। এনডিএ জোটের পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর নির্বাচনে কোনও বাধা আসার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নতুন বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে মূলত প্রথাগত কার্যসূচি থাকলেও শাসক দলের আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন বিল পাস থেকে বাজেট আলোচনা সব ক্ষেত্রেই সরকার নির্বিঘ্নে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে নেতাদের মত। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের ভূমিকা সীমিত হলেও তারা অধিবেশনে সরকারকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিনীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি অনুদান প্রকল্প এবং আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করবে বিরোধীরা।
অন্যদিকে স্পিকার পদের গুরুত্ব এই অধিবেশনে আরও বেড়ে গিয়েছে। সংখ্যাগত ব্যবধানে বিরোধীদের আওয়াজ অনেক সময়ই চাপা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই পরিস্থিতিতে স্পিকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা বিধানসভার আলোচনার গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার নির্বাচনের পর আগামী কয়েক দিনে সরকারের পরিকল্পিত আইনপ্রণয়ন, নতুন প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন এবং পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলির পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা এগোবে।
এদিন শপথগ্রহণের পাশাপাশি বিধানসভা চত্বরেও চলেছে ব্যস্ততা। নতুন সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক আলোচনা, মিডিয়ার নানা প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরামর্শসভা সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই অধিবেশন ঘিরে জমে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্য। পাঁচ দিনের এই অধিবেশন শেষ হবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারিভাবে প্রস্তাবিত কার্যসূচি সম্পন্ন করেই।