ওঙ্কার ডেস্ক: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অসম বিধানসভায় পাস হয়েছে। তবে রাজ্যের আইনসভায় এই বিল পাশ হলেও নয়া বিধি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে অসম রাজ্য জমিয়ত উলামা সোমবার গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানায় এটি পাস হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইইউডিএফ নামের রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অসম রাজ্য জমিয়ত উলামার কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাপক জনমতের পরিবর্তে সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে অসম বিধানসভায় বিলটি পাস করানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনটি প্রকৃত অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সংজ্ঞার সঙ্গে খাপ খায় না। তাঁর কথায়, ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি মানে ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ আইন। কিন্তু এই বিলটিতে আদিবাসী সমাজ-সহ কিছু নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি ছাড় থাকে, তাহলে অভিন্নতা কোথায়?’
তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান হিন্দু, মুসলিম, পারসি এবং খ্রিস্টান-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক ব্যক্তিগত আইনকে স্বীকৃতি দেয়। যার ফলে তারা নিজস্ব রীতিনীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করতে পারে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত অসম ইউসিসি এক সম্প্রদায়ের বিধান অন্যান্য সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে মুসলিমদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। যা সাংবিধানিক নীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী। সংগঠনটি এই বিলকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আর্জি জানিয়েছে, এটি অনুমোদন না করার জন্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে অসম রাজ্য জমিয়ত উলামা আদালতের দ্বারস্থ হবে। রফিকুল বলেন, ‘হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজনে আমরা আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।’