ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এটি আসলে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ঘটনায় মৃতার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জেরায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম হেমলতা কুমারী। তিনি পশ্চিম চম্পারণ জেলার লউকারিয়া থানার অন্তর্গত নারকাটি গ্রামের বাসিন্দা। কয়েকদিন আগে স্থানীয় একটি আমবাগানে গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তের সময় পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হেমলতা ও তাঁর স্বামী গৌতম কাজির মধ্যে তীব্র বচসা হয়েছিল। প্রতিবেশীদের একাংশও দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ, ওই দিনের ঝগড়া চরম আকার ধারণ করলে রাগের মাথায় স্বামী স্ত্রীর উপর হামলা চালায়।
পুলিশের দাবি, বচসার পর হেমলতা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে গৌতম তাঁর পিছু নেয়। একটি আখক্ষেতের মধ্যে দু’জনের মধ্যে আবার বচসা শুরু হয়। সেখানেই অভিযুক্ত গলা টিপে স্ত্রীকে খুন করে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, হত্যার পর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর জন্যই দেহ একটি আমগাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্তে নেমে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন বিভিন্ন অসঙ্গতি সামনে আসে। সন্দেহের তির স্বামীর দিকে ঘুরতেই তাঁকে আটক করে জেরা করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেয়। তদন্তকারী দল অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণও করে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পারিবারিক কলহই এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মৃতার পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করে হেফাজতের আবেদনও করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।