ওঙ্কার ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএর স্পষ্ট জয়ের পর রাজনৈতিক মহলের নজর এখন বাংলার বিধানসভার দিকে। একইসঙ্গে কলকাতার তৃণমূল ভবনেও গত কয়েক দিন ধরে শুরু হয়েছে নিবিড় বিশ্লেষণ। বিরোধী শিবির জিতলেও তৃণমূলের অন্দরে অস্বাভাবিক এক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। কারণ, এই ফলাফলকে তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সাফল্য হিসেবে দেখছে না, বরং বাংলার ভোটযুদ্ধের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় অধ্যায় বলে মনে করছে তৃণমূল শিবির।
তৃণমূলের বিশদ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, বিহারের জনমতের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে মহিলাভিত্তিক কল্যাণ প্রকল্প, বিশেষত নগদ অর্থসাহায্য সংক্রান্ত উদ্যোগ। নীতীশ কুমারের সরকার নির্বাচনের আগে মহিলাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, সেটিই ভোটের ফলাফলে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল এই প্রবণতাকে গভীরভাবে লক্ষ করছে। তাদের মতে, বাংলাতেও লক্ষ্মীর ভান্ডারসহ মহিলা-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি গত এক দশকে রাজনৈতিক হাওয়ার দিক পালটে দিয়েছে।
এ কারণে তৃণমূলের মধ্যে বাজেট বাড়ানো, প্রকল্প সম্প্রসারণ ও নতুন মহিলাকেন্দ্রিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শাসকদলের নেতাদের মতে, মহিলারা এখন রাজনীতির অন্যতম নির্ধারক শক্তি। আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের উন্নয়ন এই তিন ক্ষেত্রেই মহিলাদের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রয়োজনকে সম্মান জানিয়ে প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোই আগামী নির্বাচনে তাদের প্রধান কৌশল হতে পারে।
রাজ্যের শাসক দলের অভিজ্ঞ মহলের একাংশ সরাসরি সতর্ক করেছেন। তাদের বক্তব্য, বিহারের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বাংলার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতিগত সমীকরণ, স্থানীয় ইস্যু, উন্নয়ন বিতর্ক কিংবা নেতৃত্বের প্রতি জনআস্থা সব ক্ষেত্রেই দুই রাজ্য আলাদা বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। তাই বিহারের ফল দেখে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বরং বাংলার মাটিতে সংগঠনের ভিত আরও শক্ত করা, তৃণমূলের পুরনো ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত রাখা এবং বিরোধীদের ধারাবাহিক আক্রমণের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা এগুলোকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন অনেকে।
সার্বিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্বের মনোভাব ইতিবাচক। তারা মনে করছে, বিহারের ফল দেখিয়ে দিয়েছে নারী কল্যাণমূলক প্রকল্প এখনও ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে কার্যকরী ভোটনীতি। বিশেষ করে মহিলাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছালে তার রাজনৈতিক প্রতিফল দ্রুত দেখা যায়। এই বার্তাই তৃণমূলকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। যে কারণে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় এখন আরও বেশি করে জোর দেওয়া হচ্ছে কল্যাণনীতির বিস্তার, প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং তৃণমূলের ভরদা গ্রামীণ মহিলা ভোটারদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার ওপর।
