ওঙ্কার ডেস্ক: এক তরুণী শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগকারী শিক্ষিকাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল অভিযুক্ত। বুধবার এই ঘটনা ঘটেছে। ক্যামেরার সামনে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা হত্যাকাণ্ডটি সে ঘটিয়েছে মুখোশ পরে। খুনের পর এক নম্বর প্লেটহীন বাইকে চেপে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।
রিপোর্ট অনুসারে, নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা। ২৯ বছর বয়স তাঁর। ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন তিনি। অভিযুক্ত বুধবার সেই স্কুলে গিয়ে তাঁকে ডাকে। এর পর তিনি বাইরে এলে হামলা চালায়। পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঘটা এই ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, সন্ধ্যা যখন দেখা করতে গেটের কাছে যান। তখন ওই ব্যক্তি ছুরি দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর মুখ, ঘাড় ও বুকে ৩৪ বারেরও বেশি ছুরিকাঘাত করে সে। এই হামলার জেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিক্ষিকা। চিৎকার শুনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি জানান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারী তাঁর দিকেও তেড়ে আসে। হত্যার পর নম্বরপ্লেটবিহীন একটি বাইকে চেপে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমি সন্ধ্যাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। এক মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁকে ছুরিকাঘাত করছিল।’ ওই ব্যক্তি রুখে দাঁড়ালে হামলাকারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে ঘটনার পর সন্ধ্যাকে আল ফালাহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিলেন ওই শিক্ষিকা। তবে ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম অমিত (২১), সে কোট গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। প্রায় দুই বছর আগে সন্ধ্যার সঙ্গে অমিতের পরিচয় হয়েছিল। সে কয়েকবার তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিল। সন্ধ্যার কথা বলার কোনও ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অমিত বারবার তাকে উত্ত্যক্ত করত। লাগাতার হয়রানির শিকার হয়ে ওই তরুণী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।