ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে কাঁচামালের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে তুলা আমদানির ওপর আরোপিত সমস্ত শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি করা তুলার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কাস্টমস শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।
সরকারের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে তুলার সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব থেকে দেশীয় বস্ত্র শিল্পকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুল্ক ছাড়ের ফলে তুলা আমদানির খরচ কমবে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে বস্ত্র ও পোশাক প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি। তুলার সহজলভ্যতা বাড়লে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং শিল্পের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সরকার জানিয়েছে, শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেশীয় তুলা চাষিদের স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘মিশন ফর কটন প্রোডাক্টিভিটি’-র জন্য ৫,৬৫৯.২২ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। দেশের তুলা উৎপাদনে স্থবিরতা, উৎপাদনশীলতার হ্রাস এবং গুণগত মান সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য।
সরকারের ‘ফার্ম টু ফাইবার, ফাইবার টু ফ্যাক্টরি, ফ্যাক্টরি টু ফ্যাশন এবং ফ্যাশন টু ফরেন’ বা ৫এফ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় রোগ ও কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল বীজ উদ্ভাবন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার, উচ্চ ঘনত্বের চাষ পদ্ধতি, উন্নত তুলা ব্যবস্থাপনা এবং অতিদীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলার উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। এছাড়া তুলার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জিনিং ও প্রসেসিং কারখানার আধুনিকীকরণ, উন্নত পরীক্ষাগার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গুণমান নির্ধারণের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের আশা, এই উদ্যোগের ফলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের তুলা উৎপাদন ৪৯৮ লক্ষ বেলে পৌঁছাবে এবং প্রতি হেক্টরে উৎপাদনশীলতা ৪৪০ কেজি থেকে বেড়ে ৭৫৫ কেজিতে উন্নীত হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তুলা উৎপাদনে দেশের আত্মনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হবে।