ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটপরবর্তী হিংসার পরবর্তীকালে আক্রান্তের বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকার গাড়ি নয়, দু’চাকার বাইকে করে সোনারপুরে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। অনেক আগে থেকেই এলাকাবাসীরা হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সোনারপুর যেতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়তে থাকে। তার মধ্যেই ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ এগোতে থাকেন সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে। সেই সময় তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের সাদা রঙের শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা।
বস্তুত, অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও কোথাও মহিলাদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে বাইক নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েক জন। তার পর শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা। এর মধ্যে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছোন অভিষেক। সেখানে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায় অভিষেককে। তিনি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপি সরকারকে। অভিষেক বলেন, ‘‘মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি হয়তো একই ভাবে বেরিয়ে গেলাম। তার পর তো সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওই বখাটেগুলো।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ওরা আমায় মারতে চায়। মেরে দিক। আমি এখান থেকে যাব না । সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি। দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। পুলিশের কেউ নেই এখানে।’’