ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থান ঘিরে ফের কূটনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। সম্প্রতি এক বক্তব্যে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, ওয়াশিংটনের তরফে কঠোর শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারির পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধও করেছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এই সিদ্ধান্তের পিছনে আমেরিকার চাপ এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাই মূল ভূমিকা নিয়েছে।
বেসেন্টের দাবি, রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে গেলে যেসব দেশের উপর বিপুল শুল্ক চাপানো হতে পারে, সেই তালিকায় ভারতের নামও ছিল। আমেরিকার কংগ্রেসে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভারতের তেল আমদানির নীতিতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন ট্রেজারি সচিব। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত এই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে গেলে তার অর্থনৈতিক মূল্য চোকাতে হতে পারে।
আমেরিকার তরফে দাবি করা হলেও, ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেনি যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। অতীতে নয়াদিল্লি বারবার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সস্তা দামে তেল পাওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো হয়েছিল বলেও ভারত ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন মন্তব্যে স্পষ্ট, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে ভারতের এই অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক নজরের কেন্দ্রে।
বেসেন্ট তাঁর বক্তব্যে ইউরোপ ও চিনের প্রসঙ্গও টানেন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলি এখনও বিভিন্ন পথে রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে এবং চিন বর্তমানে রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। সেই তুলনায় ভারতের অবস্থান বদলকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। আমেরিকার মতে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস থেকে পাওয়া আয়ই ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বড় উৎস, তাই এই রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করাই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি চাহিদা, অন্যদিকে আমেরিকার চাপ ও সম্ভাব্য শুল্ক এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই নয়াদিল্লিকে এগোতে হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা আরও কড়াকড়ি হলে, ভারতের জ্বালানি নীতিতে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
