ওঙ্কার ডেস্ক: পাঁচ রাজ্যে ভোটপর্ব মিটতেই দেশে জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। লাগাতার বেড়েই চলেছে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস, এটিএস-এর দাম। স্বাভাবিক ভাবেই তার প্রভাব রোজকার দিনেও পড়তে শুরু করেছে। জুন মাসের শুরু থেকেই দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ জুন থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করে এসেছে খনিজ সম্পদমন্ত্রক। উল্লেখ্য চলতি বছরের শুরু থেকেই এই নিয়ে মোট ছয়বার বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়াল কেন্দ্র।
দেশের বিভিন্ন মহানগরের পাশাপাশি কলকাতাতেও বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। যদিও গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি, তবুও বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি খাদ্য ব্যবসার উপর প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ বড় হোটেল থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকান প্রায় সকলেই রান্নার জন্য বাণিজ্যিক এলপিজির উপর নির্ভরশীল।
গত কয়েক মাস ধরেই ধাপে ধাপে বাড়ছে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্যপণ্য, রান্নার তেল, শাকসবজি, মাংস, মাছ এবং পরিবহণ খরচের ঊর্ধ্বগতি। ফলে ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই লাভের পরিমাণ কমে আসছে। সেই কারণে বহু রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকান আগামী দিনে মেনু কার্ডে মূল্যবৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকদের একাংশের মতে, গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি রান্নার খরচের উপর পড়ে। প্রতিদিন একাধিক সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয় এমন ব্যবসাগুলির ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয় মাসিক হিসাবে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পৌঁছায়। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় অনেকের সামনে থাকছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের বাইরে খাওয়ার খরচও বাড়তে পারে।