ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ু উপকূলে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঝড়টি বর্তমানে তামিলনাড়ু–পুদুচ্চেরি উপকূলের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং এর প্রভাবে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ৮৫–৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাগর ক্রমশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় মাছ ধরার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে এবং জেলেদের উপকূল থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
চেন্নাই, কাডালুর, ভিল্লুপুরম, পুদুচ্চেরি সহ উপকূলবর্তী জেলার বহু এলাকায় ইতিমধ্যেই জলজমা, রাস্তা বন্ধ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। উপকূলবর্তী কয়েকটি গ্রামে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নীচু অঞ্চলগুলি জলমগ্ন হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তামিলনাড়ু সরকার বহু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছে এবং ৬০০০–এর বেশি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। সেখানে খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং জরুরি সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আংশিক কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। সকাল থেকে অন্তত ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। বহু যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন এবং পরবর্তী উড্ডয়ন কখন শুরু হবে তা অনিশ্চিত। রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে। উপকূলবর্তী লাইনে কয়েকটি ট্রেন বাতিল ও কয়েকটি দেরিতে চলছে। স্কুল–কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চেন্নাই ও আশপাশের কয়েকটি জেলায়।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে প্রস্তুতির খতিয়ান নিয়েছেন। উদ্ধারকারী দল, নৌসেনা, কোস্ট গার্ড, এনডিআরএফ–এর একাধিক দলকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। উপকূলবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষকে অনর্থক বাইরে না বেরোনোর অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রবল ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া, কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং উপকূলীয় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
চেন্নাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধান সড়কগুলিতে হাঁটু পর্যন্ত জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ। প্রশাসন পাম্পিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে জল নামানোর কাজ দ্রুততর করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, পুদুচ্চেরিতেও উপকূলবর্তী এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সৈকত এলাকাগুলিকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি ভূমিভাগে আছড়ে পড়বে না। তবে উপকূল বরাবর ঘেঁষে যাওয়ার সময় প্রবল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাবার ও পানীয়জলের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
সমগ্র পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা উপকূলবাসীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র গতিপথ নজরে রেখে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি একযোগে কাজ করছে, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
