ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তৎপরতা আরও বেড়েছে। ঘটনার পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে জোরদার তল্লাশি অভিযান। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা এবং এনআইএ-র যৌথ উদ্যোগে একাধিক স্থানে চলছে অভিযান। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের পর উত্তরপ্রদেশের লখনউ, সাহারানপুর, লখিমপুর খেরি সহ অন্তত ছ’টি জেলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বরপ্লেট হরিয়ানার। তদন্তে উঠে এসেছে, ফারিদাবাদ থেকে এই গাড়িটি কেনা হয়েছিল বলে অনুমান করছে দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ। বিস্ফোরণের পর দিনই ফারিদাবাদে প্রায় ৩৬০ কিলোগ্রাম আরডিএক্স তৈরির উপকরণ (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মিলেছে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক সামগ্রী। এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের যোগ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একাধিক দল বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তথ্য সংগ্রহ করছে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে, যেখানে সন্দেহজনক কয়েকজনকে ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য এনআইএ, আইবি ও দিল্লি পুলিশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে। গোয়েন্দাদের মতে, এই বিস্ফোরণের পিছনে একটি বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যারা গত দুই বছর ধরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিস্ফোরক সংগ্রহ করছিল।
বর্তমানে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, বিশেষ করে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারি হয়নি, যদিও তদন্তকারীরা কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
