ওঙ্কার ডেস্ক: চারশো বছরেরও বেশি পুরনো চিঠি বিলি ব্যবস্থার ইতি টানল ডেনমার্ক। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রায়ত্ত ডাক পরিষেবা সংস্থা পোস্টনর্ড শেষবারের মতো চিঠি পৌঁছে দেয়। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডেনমার্ক সম্পূর্ণভাবে ঐতিহ্যবাহী চিঠি বিতরণ পরিষেবা বন্ধ করেছে।
ডেনমার্কের ডাক ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল ১৬২৪ সালে। দীর্ঘ চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই পরিষেবা দেশের প্রশাসনিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের ধরন বদলেছে। ই-মেল, মেসেজিং অ্যাপ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দাপটে চিঠির ব্যবহার ক্রমশ কমতে থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে ডেনমার্কে চিঠি পাঠানোর পরিমাণ কমেছে প্রায় নব্বই শতাংশেরও বেশি। এই বিপুল পতনের ফলে চিঠি বিলি ব্যবস্থা চালু রাখা আর্থিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
ডেনমার্কের পোস্টনর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অল্পসংখ্যক চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়ে বিপুল পরিকাঠামো ও কর্মী ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও চিঠি বিতরণ বন্ধ হলেও পার্সেল ও পণ্য পরিবহণ পরিষেবা চালু থাকবে। ই-কমার্সের প্রসারের কারণে এই ক্ষেত্রেই এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে। চিঠি বিলি বন্ধ হওয়ার ফলে ডেনমার্কের রাস্তাঘাট থেকে ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে পরিচিত লাল রঙের পোস্টবক্সগুলি। বহু নাগরিক এই পরিবর্তনকে আধুনিকতার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে মেনে নিলেও, অনেকের কাছেই বিষয়টি আবেগের। হাতে লেখা চিঠি, প্রিয়জনের অপেক্ষা করা ডাক, এই সব স্মৃতি আজ শুধুই অতীত। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে নস্টালজিয়ার আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে সম্পূর্ণভাবে চিঠি পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। বেসরকারি কয়েকটি সংস্থা সীমিত পরিসরে চিঠি পরিবহণ পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। যদিও তার জন্য ডিজিটাল বুকিং বা নির্দিষ্ট ড্রপ-পয়েন্ট ব্যবহারের মতো নতুন নিয়ম মানতে হবে।
