ওঙ্কার ডেস্ক: “বিচার প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব হলে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়াই হওয়া উচিত নিয়ম”, ‘জয়পুর লিটরেচার ফেস্টিভ্যাল’-এ উমর খালিদ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচার শুরু না হওয়া বা শেষ না হওয়ার কারণে কোনও অভিযুক্তকে জেলে আটকে রাখা সংবিধানস্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। বিচারাধীন অবস্থায় দীর্ঘ কারাবাস কার্যত শাস্তির সমান হয়ে দাঁড়ায়, যা আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জানান, ভারতের বিচারব্যবস্থা মূলত ‘দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ’ এই নীতির উপর দাঁড়িয়ে। অথচ বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা বছরের পর বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে। পরে যদি তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে কারাবাসে কাটানো সেই সময় কোনওভাবেই ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই প্রসঙ্গে দিল্লির ২০২০ সালের হিংসা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন জেএনইউ ছাত্রনেতা উমর খালিদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তিনি বলেন, উমর খালিদ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছেন, অথচ মামলার মূল বিচার প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে জামিন নিয়ে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় স্পষ্ট করেন, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই থাকতে পারে। যদি আদালতের কাছে মনে হয় অভিযুক্ত আবার একই অপরাধে জড়াতে পারেন, অথবা জামিন পেলে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিংবা প্রমাণ লোপাট বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা আছে, সেক্ষেত্রে জামিন নাকচ করা যুক্তিসঙ্গত। তবে এই আশঙ্কাগুলি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে দীর্ঘদিন ধরে জামিন অস্বীকার করা আইনসঙ্গত নয় বলেই মত তাঁর।
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলাতেও বিচারব্যবস্থাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাউকে বন্দি করে রাখা সংবিধানের মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিস্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি”।
