ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সদর দফতরের কাছাকাছি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের একটি আবাসিক এলাকার বাগান থেকে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ব্যাগটি দেখতে পান এবং বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ, বোম্ব স্কোয়াড এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল। এরপর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একাধিক জেলাটিন স্টিক, বিপুল সংখ্যক ডিটোনেটর এবং বিস্ফোরক তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক বিস্ফোরক, যা কোনও বড়সড় নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হতে পারত। বিস্ফোরকগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে নির্দিষ্ট সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সদর দফতরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। পাশাপাশি আশেপাশে রয়েছে জনবহুল এলাকা, ধর্মীয় স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র। ফলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিস্ফোরকগুলি কিছুদিন ধরেই ওই স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ঠিক কতদিন ধরে সেগুলি সেখানে ছিল এবং কে বা কারা এগুলি রেখে গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
এছাড়াও বিস্ফোরকের উৎস খুঁজে বের করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর গায়ে থাকা নম্বর, প্যাকেটিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথা থেকে এগুলি এসেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কোনও বৃহত্তর চক্রান্ত বা সংগঠিত নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি, তবে সমস্ত সম্ভাব্য দিক খোলা রেখেই তদন্ত এগোচ্ছে।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।