ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের শীর্ষ আদালত সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে সমাজে নারীদের প্রতি গভীরভাবে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছে। সুপ্রিম কোর্ট একটি পণজনিত খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সাজা বহাল রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করে।
মামলাটি ছিল পণ সংক্রান্ত অত্যাচার এবং গার্হস্থ্য হিংসার জেরে এক মহিলাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয় এবং নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। নারীদের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার প্রবণতা এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলানো উচিত ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, আজও বহু ক্ষেত্রে নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ এবং জীবনযাত্রার উপর পরিবার ও সমাজের একাংশ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চায়। এই মানসিকতাই পণপ্রথা, গার্হস্থ্য নির্যাতন এবং নারীহত্যার মতো অপরাধকে উসকে দেয়।
বিচারপতিরা আরও বলেন, দেশে নারীদের সুরক্ষার জন্য একাধিক আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ সবসময় হয় না। আইনি কাঠামো যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি সমাজের মানসিকতা পরিবর্তিত না হয়, তবে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করা কঠিন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও কেন নারীদের প্রতি এই বৈষম্য এবং সহিংসতা বজায় রয়েছে। আদালত আরও জানায়, নারীদের সম্মান, স্বাধীনতা এবং সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধুমাত্র আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে এই পরিবর্তন আনতে হবে।