ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ল ভারতীয় শেয়ারবাজারে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পরে এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়, যার জেরে বাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
বুধবার বাজার খোলার পর থেকেই সেনসেক্স এবং নিফটি দ্রুত উত্থান লক্ষ্য করা যায়। দিনের লেনদেনের শুরুতেই সেনসেক্স কয়েক হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে এবং নিফটিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এই হঠাৎ উত্থান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্ভপর হয়েছে বলে মনে কড়া হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা আপাতত কমে যাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
এই উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের পতন। দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা ছিল, কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেলের সরবরাহে বড়সড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কেটে যাওয়ায় তেলের দাম কমে আসে। এর ফলে ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে। তেলের দাম কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিভিন্ন খাতে। বিশেষ করে পরিবহন, বিমান, অটোমোবাইল, ব্যাংকিং ও নির্মাণ সংক্রান্ত সংস্থাগুলির শেয়ারে চাঙ্গাভাব দেখা যায়। পাশাপাশি আর্থিক পরিষেবা ও মেটাল সেক্টরেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাজারের প্রায় সব ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের দাপট থাকায় সামগ্রিকভাবে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকে।
এই আন্তর্জাতিক ইতিবাচকতার পাশাপাশি দেশের আর্থিক নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাজারকে শক্তিশালী করে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কও তাদের মুদ্রানীতি বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে এই হার একই অবস্থানে বজায় রাখা হয়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতার বজায় রেখেছে। বিনিয়োগকারীরা এই সিদ্ধান্তকে সতর্ক কিন্তু ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্ববাজারেও এই যুদ্ধবিরতির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যার প্রভাব সরাসরি ভারতীয় বাজারে এসে পড়ে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয়ভাবে বাজারে অংশ নেয়। ফলে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই উত্থান কতটা স্থায়ী হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং যুদ্ধবিরতি আপাতত অস্থায়ী। যদি আবার উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তাহলে তেলের দাম এবং শেয়ারবাজার উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।