ওঙ্কার ডেস্ক: গাজিয়াবাদের লোনি এলাকার ভারত সিটি আবাসনে বুধবারে ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হৃদয়বিদারক এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। অ্যাপার্টমেন্টের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে একই পরিবারের তিন নাবালিকা। মৃত তিন নাবালিকার নাম পাখি (১২), প্রাচি (১৪) এবং ভিশিকা (১৬)। ঘটনায় শোকস্তব্ধ প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন, সকলেই। তিন নাবালিকার হঠাৎ এমন কর্মকান্ডের নেপথ্যের কারণ খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিন বোন চুপিসারে বাড়ির একটি ঘরে যায়। তারপর সেখান থেকে কোনওভাবে নবম তলার একটি ফাঁকা অংশে পৌঁছে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, একটি চেয়ার বা আসবাব ব্যবহার করে জানালা বা বারান্দা টপকে তারা নিচে ঝাঁপ দেয়। রাত প্রায় দু’টো নাগাদ বিকট শব্দে আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী ও বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ওই অ্যাপার্টমেন্টের এক বাসিন্দা দুর্ঘটনার সময় নিজের বাড়ির বারান্দায় উপস্থিত ছিলেন এবং ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, “এক বোন আগে ঝাঁপ দিতে গেলে বাকি দু’জন তাকে থামানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনজনই নিচে পড়ে যায়”। ঘটনার আকস্মিকতায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি।
পরিবারের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে তিন বোনই মোবাইল ফোনে অনলাইন গেম খেলায় অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোযোগ কমে যাচ্ছিল। এই নিয়ে বাবা-মা একাধিকবার আপত্তি জানান এবং সম্প্রতি ফোন ব্যবহারেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। পুলিশ বাড়ি থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করেছে, যাতে বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা এবং নিজেদের মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে ওই চিরকুটের বিষয়বস্তু ও ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশীরা জানান, তিন বোনই পরস্পরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল এবং প্রায় সব সময় একসঙ্গেই থাকত। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীরা তাদের মোবাইল ফোন, অনলাইন কার্যকলাপ এবং সাম্প্রতিক আচরণ বিশ্লেষণ করছেন। মানসিক চাপ, পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনও প্রভাব সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে তিন কিশোরীর মৃত্যুতে পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর অনলাইন আসক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমাজের বিভিন্ন মহলে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ তদন্তের পরেই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
