ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র পবন খেরা-র অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং গ্রেফতারের আশঙ্কাও জোরদার হয়েছে।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি পার্থিবজ্যোতি সাইকিয়ার একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতে খেরার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁকে হেনস্তা করার জন্যই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি এবং তদন্তের স্বার্থে অগ্রিম জামিন দেওয়া সমীচীন নয় বলেই মত প্রকাশ করে।
এই মামলার সূত্রপাত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র স্ত্রী রিনিকি ভূঁইয়া শর্মার অভিযোগ থেকে। তাঁর দাবি, পবন খেরা একটি সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক পাসপোর্ট, বিদেশী কোম্পানীতে অবৈধ বিনিয়োগ এবং বিদেশে সম্পত্তি নিয়ে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে প্রতারণা, জালিয়াতি ও মানহানির মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, এই মামলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করা প্রয়োজন এবং সেই কারণে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি হতে পারে। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রিম জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে গ্রেফতার এড়াতে পবন খেরা বিভিন্ন আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রথমে অন্য এক হাইকোর্ট থেকে তিনি সাময়িক সুরক্ষা পেলেও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট সেই সুরক্ষায় স্থগিতাদেশ দেয় এবং তাঁকে উপযুক্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই তিনি গৌহাটি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।
এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বিরোধী নেতাদের টার্গেট করতেই এই ধরনের মামলা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক পক্ষের বক্তব্য, আইনের নিজস্ব প্রক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনও প্রশ্ন নেই।