ওঙ্কার ডেস্ক:- সবেমাত্র শেষ হয়েছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। বাকি রয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব। এর মধ্যেও থেমে নেই ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলার শেকড় খুঁজতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সমেত শনিবার সাতসকালে রাজ্যের ৯ টি জায়গায় তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, হাবরার জয়গাছি নেতাজি রোডে ব্যবসায়ী সমীর চন্দের বাড়িতে হানা দেন আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই চাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সমীর চন্দের নাম রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। কোন জায়গা থেকে চাল কেনা হয়, কত দামে তা কেনা-বেচা হয় এবং মান্ডিতে কী দামে সরবরাহ করা হয়, এই সমস্ত লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপর দিকে, হাবারার শ্রীনগর রোডে আরও এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সাগর সাহার বাড়িতেও অভিযান চালায় ইডি। শনিবার সকালে ঐ ব্যবসায়ীর বাড়ির অধিকাংশ সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হয়। ইডি সূত্রে দাবি, রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় হাবরার অন্তত তিনজন চাল ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, রেশনের সামগ্রী কালোবাজারি করা হচ্ছিল এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করার ঘটনাও সামনে এসেছে। এ ছাড়া পূর্ব বর্ধমানের এক ব্যবসায়ীও ইডি-র নজরে বলে জানা গিয়েছে। বর্ধমান শহরের জিটি রোড সংলগ্ন রুবি প্যালেস মার্কেটের দোতলায় মা অন্নপূর্ণা রাইস মিলের অফিসে এ দিন হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট। ইডি সূত্রে খবর, প্রায় দশজন আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অতিমারির সময়ে পাঁচ হাজার টনের ও বেশি গম চোরাপথে বাংলাদেশে চালান করা হয়েছিল। ইডি সুত্রে দাবি, দুর্নীতির প্রায় ১৬ কোটি টাকা রাজনীতির নানান প্রভাবশালীর হাত ধরে টা কালো থেক সাদা করা হয়েছিল। প্রথমে রাজ্য পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, পরবর্তীতে তদন্তভার হাতে নেয় ইডি। তদন্তকারি সংস্থার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন রফতানিকারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে আগামী ২৯ এপ্রিল হাবরা বিধানসভায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেই কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোয় ইতিপূর্বেই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। দীর্ঘ কারাবাসের পর বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। সেই নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই তল্লাশি স্বাভাবিক ভাবে যে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।