ওঙ্কার ডেস্ক: গুজরাটের চারটি রাজ্যসভা আসনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় রাজ্যের চারটি শূন্য আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে গুজরাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর ফলে রাজ্য থেকে কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রতিনিধিত্ব সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে।
আগামী ২১ জুন গুজরাট থেকে চার জন বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেই আসনগুলির জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই চার জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এবং তাঁরা মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় নির্বাচনী লড়াই কার্যত একতরফা হয়ে পড়েছে। ফলে ভোটাভুটির প্রয়োজন না-ও হতে পারে এবং বিজেপির চার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।
গুজরাট বিধানসভায় বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে রাজ্যের ১৮২ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ১৬০-এরও বেশি। ফলে সংখ্যার নিরিখে চারটি আসনেই বিজেপির জয় নিশ্চিত ছিল। তবু কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ায় রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুযোগও তৈরি হল না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি গুজরাটে কংগ্রেসের ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ার একটি বড় উদাহরণ। একসময় যে রাজ্যে কংগ্রেসের শক্তিশালী সংগঠন ছিল, সেই রাজ্যেই এখন দলের পক্ষে রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মতো অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক নির্বাচনে পরাজয়, দলত্যাগ এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে কংগ্রেসের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরছে। দলের নেতাদের দাবি, গুজরাটে উন্নয়নমূলক কাজ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তির ফলেই রাজ্যে বিজেপির অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে। রাজ্যসভায় চারটি আসন পাওয়ার ফলে সংসদের উচ্চকক্ষেও বিজেপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গুজরাটে কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রতিনিধিত্ব শূন্যে নেমে আসা শুধু একটি নির্বাচনী ঘটনা নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগামী দিনে গুজরাটে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং কংগ্রেস কীভাবে নিজেদের সংগঠনকে পুনর্গঠন করবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।