ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এমন কিছু সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা তদন্তকে নতুন মোড় দিয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্র দেখে মনে হচ্ছে অভিযুক্তদের কার্যকলাপ শুধুমাত্র এই খুনের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আরও বড় কোনও অপরাধচক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ থাকতে পারে।
তদন্তের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালান দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা। সেই তল্লাশিতে উদ্ধার হয় একাধিক জাল পরিচয়পত্র, নকল ভারতীয় মুদ্রা, পুলিশের ভুয়ো ব্যাজ, বিপুল সংখ্যক নতুন শার্ট এবং বহু দামি ঘড়ি। এত বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় হতবাক হয়ে যান তদন্তকারীরাও। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি জিনিস খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেগুলির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবস্মিতা পালের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই বিরোধ থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় প্রতিশোধের মানসিকতা। অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে অধ্যাপিকাকে পথের কাঁটা মনে করতে শুরু করে অভিযুক্তরা। এরপরই পরিকল্পনা করে তাঁকে খুনের ছক কষা হয়।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার আগে অভিযুক্তরা একাধিকবার দিল্লিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল। অধ্যাপিকার দৈনন্দিন রুটিন, ফ্ল্যাটে যাতায়াত এবং একা থাকার বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্দিষ্ট দিনে তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছন এবং অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে যান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দেবস্মিতা পাল অভিযুক্তদের চিনতেন বলেই তাঁদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে দিয়েছিলেন। জোর করে দরজা ভাঙার কোনও চিহ্নও পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের মতে, পরিচিত হওয়ার সুযোগকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। ফ্ল্যাটের ভিতরে প্রবেশের পর আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য লুঠপাট ছিল না। কারণ ফ্ল্যাটে থাকা মূল্যবান সামগ্রী, নগদ অর্থ বা অন্যান্য জিনিসপত্রে হাত দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক খুনের তত্ত্বই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া জাল নথি, ভুয়ো পুলিশ ব্যাজ এবং নকল মুদ্রার উৎস খুঁজতে শুরু করেছে পুলিশ। এই সামগ্রীর সঙ্গে অন্য কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে উদ্ধার হওয়া সমস্ত প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দেবস্মিতা পাল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। একটি সম্পত্তি বিবাদ থেকে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিণত হল এবং তার সঙ্গে আরও কোনও অপরাধচক্র জড়িয়ে রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।