ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ঠেকাতে ১১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ উঠল খালিস্তানি নেতা গুরপতওয়ন্ত সিংহ পন্নুনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বুধবার সংস্থার তরফে পন্নুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খবরে প্রকাশ, ১০ অগস্ট পাকিস্তানের লাহৌরে ‘মিট দ্য প্রেস’ নামের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজির হয়েছিলেন পন্নুন। সেখান থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় পতাকা উত্তোলন থেকে বিরত রাখতে ১১ কোটি টাকার পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভারতের মানচিত্রের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে তিনি একটি তথাকথিত নতুন ‘খালিস্তান মানচিত্র’ প্রকাশ করেন, যেখানে পঞ্জাব ছাড়াও দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এনআইএ এর অভিযোগ অনুযায়ী, পন্নুনের বক্তব্য এবং পদক্ষেপ সশস্ত্র বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সরকারি মহল জানিয়েছে, পন্নুনের এই ঘোষণার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারীদের মধ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে। পন্নুনকে দীর্ঘদিন ধরেই খালিস্তানপন্থী প্রচারক ও ভারতের শত্রুতামূলক কার্যকলাপের অন্যতম মুখ্য সংগঠক বলে মনে করা হয়। আমেরিকায় বসবাসকারী এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা অতীতে একাধিকবার ভারত-বিরোধী প্রচারে সরব হয়েছেন, কখনও সশস্ত্র আন্দোলনের ডাক দিয়ে, আবার কখনও বিদেশে ভারতীয় কূটনীতিকদের হুমকি দিয়ে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘোষণা কেবলমাত্র ঘৃণা ছড়ানো বা প্রচারণা নয়, কার্যত ভারতের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে আঘাত করার এক সুপরিকল্পিত কৌশল। এনআইএ-র মামলায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পন্নুনের বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করছে। সেই কারণেই তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় ভারতীয় আইনের আওতায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
