ওঙ্কার ডেস্ক: ক্রমাগত তাকে হেনস্থা করত এক কিশোর। বিষয়টি বাড়িতে জানিয়েছিলেন নাবালিকা। আর মেয়ের সুরক্ষার কথা ভেবে বসে থাকেননি বাবা। তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আর তার জেরে তাঁকে মারধরত করল অভিযুক্ত এবং তার তিন সঙ্গী। চোখের সামইনে এই দৃশ্য দেখে অপমানে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার খুরাইতে।
রিপোর্ট অনুসারে, ওই কিশোরী নবম শ্রেণির ছাত্রী। নিজের গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। সাগরের বুন্দেলখণ্ড মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি ঘটেছে গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। মালথোন থানা এলাকায় এটি ঘটেছে। পুলিশ আধিকারিক নবীন জৈন জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং এসসি-এসটি আইনের একাধিক ধারায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চার জনই নাবালক বনলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে মালথোনের একটি সরকারি স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন বাসে করে যাতায়াত করত। ৬ কিলোমিটার দূরে অন্য একটি গ্রামের এক ছেলেও ওই স্কুলে পড়ত। সেও বাসে যাতায়াত করত। কিন্তু গত তিন মাস ধরে মেয়েকে হয়রানি করছিল ওই ছেলে। প্রায়ই ফোন করত কিশোরীকে। নিষেধ করা সত্ত্বেও কথা কানে নেয়নি। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েটির বাবার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখেন অভিযুক্ত তার তিন সঙ্গীকে নিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চার জন মিলে গালিগালাজ করতে শুরু করে। প্রতিবাদ করলে, লাথি ও ঘুষি মারতে শুরু করে অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয় ঘটনার পর, অভিযুক্তরা তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এই দৃশ্য দেখে মেয়ে অপমানে বাড়ির ভেতরে গিয়ে নিজের গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিৎকার শুনে পরিবারের লোক তড়িঘড়ি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।