ওঙ্কার ডেস্ক: গত ১০ বছরে তামিলনাড়ুতে বন্যপ্রাণীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কেবল মানুষের চেষ্টার মাধ্যমে এই মৃত্যু কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বন দফতরের আধিকারিকরা।
বনের চিফ কনজারভেটর ডি ভেঙ্কটেশের দেওয়া রিপোর্ট অনুসারে, বন্য হাতির হামলায় কেবল ৫২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৯ সালে যে সংখ্যাটা ছিল সর্বোচ্চ। ওই বছর শুধু ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাইসনের হানায় নিহত হয়েছেন ৯৪ জন। এ ছাড়া বাঘ ও চিতাবাঘের আক্রমণে আট জন এবং ভালুকের আক্রমণে নয় জন প্রাণ হারিয়েছেন। বন্য শুয়োরের আক্রমণে রাজ্যটিতে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। হরিণের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। মানুষ ও বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে বুধবার কোয়েম্বাটুরে কৃষক, এনজিও, পুলিশ, রেলওয়ে এবং বন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে বক্তব্য রাখেন ভেঙ্কটেশ। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের সঙ্কোচন সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। আগের থেকে বনাঞ্চল ধ্বংস করে কৃষিকাজ বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর কথায়, ‘বন্যপ্রাণীদের দোষ দেওয়ার বদলে মানুষ হিসেবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং স্থানীয় সংস্থাগুলির চেষ্টা মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে অপরিহার্য। খাদ্য ও জলের জন্য বন থেকে বেরিয়ে আসা বন্য হাতি কেবল মানুষের উপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং হাতিরা প্রতি বছর ৩০০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার হেঁটে বেড়ানোয় তাদের নিজস্ব জীবনযাত্রার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনের বাইরে হাতির প্রজনন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গবাদি পশুর দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
