ওঙ্কার ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ভাবনা-চিন্তা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। খুব শিগগিরই এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।
বর্তমানে প্রনয় কুমার ভার্মা ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই ঢাকায় নতুন প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর নামই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সাধারণত এই ধরনের কূটনৈতিক পদে অভিজ্ঞ কেরিয়ার ডিপ্লোম্যাটদেরই নিয়োগ করা হয়। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। সেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মুখে পড়ে। বাংলাদেশে সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিজের একাধিক বক্তৃতায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সুষ্ট করার ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন। তবে উভয় দেশের পক্ষ থেকেই সেই সম্পর্ককে স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদীর সম্ভাব্য নিয়োগকে অনেকেই “সম্পর্ক পুনর্গঠন”-এর কৌশল হিসেবে দেখছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। ফলে দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।