ওঙ্কার ডেস্ক: লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণকে ঘিরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
খড়্গের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নারী সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত হয়েছে। তাঁর দাবি, ভাষণের বড় অংশ জুড়ে বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো ভাষণে “কংগ্রেস” শব্দটি বহুবার উচ্চারিত হলেও নারীদের অধিকার, সংরক্ষণ বা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা ছিল না। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, সরকার আসল ইস্যু থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
এই প্রসঙ্গে খড়্গে আরও বলেন, নারী ক্ষমতায়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করাই যেন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের ভাষণ দেশের মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছে দেয় এবং প্রকৃত সমস্যাগুলিকে আড়াল করে।
অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, নারী সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ার জন্য বিরোধীরাই দায়ী। সরকারের মতে, তারা বরাবরই মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পক্ষে এবং এই বিল পাস করাতে আন্তরিক ছিল। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবেই বিলটি লোকসভায় পাস হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তর্ক-বিতর্ক ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। একদিকে বিরোধীরা সরকারকে নারী ইস্যুতে উদাসীন বলে অভিযুক্ত করছে, অন্যদিকে সরকার বিরোধীদের উপর দায় চাপাচ্ছে। ফলে নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখনও কাটেনি এবং আগামিদিনে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসতে পারে।