ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে হতে পারে খরা এমনটাই জানাছে মৌসম ভবন। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বর্ষার এই সম্ভাব্য ঘাটতি কৃষি, জলসম্পদ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রত্যাশিত শক্তি নিয়ে সক্রিয় নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় ৬০% পরিমাণ কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ভারত, উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং উপদ্বীপীয় ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতির জন্য মূলত প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া জলবায়ুগত পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবে ভারতীয় মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতীয় উপমহাদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায় এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই এবারের বর্ষা নিয়ে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি এখনও সরাসরি বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টিপাত কম হলে ধান, ডাল, তৈলবীজ, আখ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যশস্যের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। শুধু কৃষিক্ষেত্রই নয়, কম বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়তে পারে জলাধার এবং পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও। দেশের বিভিন্ন বড় জলাধার ও বাঁধে জলস্তর কমে গেলে সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি খরার পরিস্থিতি তৈরি হলে বহু অঞ্চলে পানীয় জলের সংকটও দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, বৃষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি তাপপ্রবাহের প্রকোপও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে দেশের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। এর ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ ও শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নেতিবাচক নয়। মৌসুমের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সামুদ্রিক ও বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের পরিবর্তনের ফলে কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির উন্নতিও হতে। কৃষি, জলসম্পদ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।