ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও আধুনিক যুদ্ধনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চবন সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ যদি মূলত আকাশপথেই নির্ধারিত হয়, তাহলে এত বিপুল সংখ্যক পদাতিক সেনার প্রয়োজনীয়তা কোথায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
চবনের মতে, সাম্প্রতিক কালের সামরিক সংঘর্ষ ও আধুনিক যুদ্ধাভ্যাস স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান হামলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আকাশযুদ্ধই আগামী দিনের সংঘর্ষের মূল নির্ধারক হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত বিশাল পদাতিক বাহিনী কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধ যদি মূলত আকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এত সংখ্যক সেনাকে স্থলভাগে রেখে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে চবন কার্যত দেশের সামরিক নীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অগ্রাধিকারের দিকটি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, কারণ ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধুমাত্র সংখ্যার জোরে নয়, বরং প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের উপর নির্ভর করবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ও অনুশীলনে দেখা গেছে যে আকাশপথে শক্তি প্রদর্শনের ভূমিকা অনেক বেশি, যেখানে পদাতিক সেনাদের সরাসরি অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সীমিত।
তবে চবনের এই বক্তব্যের বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব স্বীকার করলেও পদাতিক বাহিনীর ভূমিকা কখনওই পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে না। সীমান্ত রক্ষা, দখলকৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে স্থলবাহিনীর গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। সমালোচকদের দাবি, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যুদ্ধগুলিতেও দেখা গেছে যে শেষ পর্যন্ত মাটির দখল ধরে রাখতে পদাতিক সেনাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার কি আদৌ সামরিক কৌশল ও বাহিনীর কাঠামো নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করছে, নাকি পুরনো ধাঁচেই এগিয়ে চলেছে। চবনের মন্তব্য সেই বৃহত্তর বিতর্ককেই সামনে এনে দিয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি কি ভবিষ্যতের যুদ্ধের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, নাকি এখনও সংখ্যাগত শক্তির ধারণার মধ্যেই আটকে রয়েছে। এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
