ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় এক ভারতীয় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম অনশুল কুঞ্চা। তেলঙ্গানার বাসিন্দা অনশুল কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় বসবাস করছিলেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য তিনি খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার হয়ে খণ্ডকালীন কাজও করতেন। সেই কাজ করতে গিয়েই তাঁর মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে একটি পিৎজার অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ঠিকানায় যান অনশুল। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সেই অর্ডারই হয়তো তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। অভিযোগ, নির্জন এলাকায় পৌঁছনোর পর আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। মাথায় একাধিক গুলি লাগায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর থেকেই অনশুলের পরিবার এই মৃত্যুকে নিছক ছিনতাই বা আকস্মিক অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, হামলার পর অনশুলের কাছ থেকে কোনও অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী কিংবা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খোয়া যায়নি। সাধারণত ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হামলা হলে মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তেমন কিছু না হওয়ায় তাঁদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরিবারের দাবি, পিৎজার অর্ডারের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে অপেক্ষা করছিল হামলাকারীরা। ফলে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলেই তাঁদের ধারণা। ইতিমধ্যেই অনশুলের মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনায় তেলঙ্গানায় অনশুলের পরিবার, বন্ধু এবং পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারী সম্ভবত একাধিক ব্যক্তি ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মুখ ঢাকা ছিল এবং পিঠে ব্যাগ ছিল। পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। জানা গিয়েছে, এর আগেও একবার অপরাধীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন অনশুল। সেই ঘটনায় তাঁর কাছ থেকে ঘড়ি, সোনার চেন এবং নগদ অর্থ লুট করা হয়েছিল। তবে এবার কোনও ধরনের লুটপাটের প্রমাণ না মেলায় তদন্তকারীদের কাছেও প্রশ্ন উঠছে, হামলার নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না।