ওঙ্কার ডেস্ক: ৮ জুন কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী জোট, ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজধানী যাচ্ছেন মমতা। সেই সময় রবিবার বিকেল ৪টেয় কাউন্সিলরদের নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকলেন মমতা। সূত্রের খবর, পুরসভায় তৃণমূলের পরবর্তী দলনেতার নাম স্থির করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকে কত জন কাউন্সিলর যোগ দেবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ। তার পরে পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়ে দেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মেয়রের ইস্তফার পরে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়। উল্লেখ্য, ফিরহাদের ইস্তফার পরে অন্য কাউকে মেয়র হিসাবে বসায়নি তৃণমূল। সে নিয়ে কোনও আবেদনও করা হয়নি বলে সূত্রের খবর।
এই অবস্থায় রাজ্য সরকার মনে করছে, মেয়রের পদত্যাগের ফলে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হতে পারে। নাগরিক পরিষেবাও বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারায় রাজ্য সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনও পুরসভা তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়, ধারাবাহিক ভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করে অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তা হলে সরকার তাকে অযোগ্য বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে ঘোষণা করে পুরসভা ভেঙে দিতে পারে। এ অবস্থায় কলকাতা পুরসভা বোর্ড ধরে রাখতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে তৃণমূলের রবিবারের বৈঠকে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলের অন্দরে এক বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। গত রবিবার মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের ৬০ বিধায়ক। পরে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থক নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অবস্থায় রবিবার মমতার ডাকা বৈঠকে কত জন কাউন্সিলর থাকবেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে।
প্রসঙ্গত, ফিরহাদের স্থানে যেই বসুক না কেন তিনি হাতে সময় পাবেন আর ৬ মাস। অপর সিকে সরকারের নির্দেশ মত পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার কথা থাকলেও তা কিছুদিনের জন্য।