ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমে। হরিয়ানায় এই অত্যাধুনিক ট্রেন চালুর প্রস্তুতি ভারতীয় রেলকে এক নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর রেল পরিষেবার বিকল্প হিসেবে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার নিয়ে যে পরিকল্পনা চলছিল, এবার তা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।
হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে চালু হওয়ার কথা এই বিশেষ ট্রেনের, যা সম্পূর্ণভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। ট্রেনটি চলার সময় প্রায় শূন্য কার্বন নিঃসরণ করবে, ফলে পরিবেশ দূষণ কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে এই প্রযুক্তিতে উৎপন্ন শক্তি ট্রেন পরিচালনা করবে এবং নির্গমন হিসেবে থাকবে মূলত জলীয় বাষ্প। ফলে এটি টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা। জিন্দে তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং কেন্দ্র, যেখান থেকে ট্রেনের জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। রেল আধিকারিকদের মতে, এই ট্রেনের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য নন-ইলেকট্রিফায়েড রুটেও সবুজ জ্বালানি প্রযুক্তি বিস্তারের পথ খুলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতও এখন পরিবহণ ক্ষেত্রে গ্রিন হাইড্রোজেন প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করছে। এই প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও পরিবেশ সুরক্ষার বৃহত্তর লক্ষ্যকেও শক্তিশালী করছে। একইসঙ্গে এটি জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সাশ্রয়ও নিশ্চিত করতে পারে।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষণা নকশা ও মান সংস্থার তত্ত্বাবধানে একাধিক পরীক্ষামূলক ট্রায়ালের মাধ্যমে ট্রেনটির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। যাত্রীসুবিধা, আধুনিক নকশা এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রেলের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত বিশ্বে পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারে। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন তাই শুধুমাত্র একটি নতুন পরিবহণ প্রকল্প নয়, বরং ভারতের সবুজ ভবিষ্যতের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।